নিজস্ব সংবাদদাতা: দিনহাটার এক ছোট গ্রাম বড় আটিয়াবাড়ি থেকে উঠে এসেছে এক অসাধারণ প্রতিভা — অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মুলতি দেবনাথ। ওয়েটলিফটিং খেলায় তার দুরন্ত পারফরম্যান্স আজ সমগ্র দিনহাটা তথা কোচবিহার জেলার গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। অল্প বয়সে রাজ্য স্তরে পদক জিতে মুলতি প্রমাণ করেছে, ইচ্ছে আর অধ্যবসায় থাকলে প্রান্তিক অঞ্চল থেকেও সাফল্যের দিগন্ত ছোঁয়া যায়।
কয়েক দিন আগে রাজ্য স্তরের ওয়েটলিফটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে নিজের ওজন শ্রেণিতে একাধিক পুরস্কার ও পদক জিতে নিয়েছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, তার টেকনিক ও শক্তি-নিয়ন্ত্রণ এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে তাকে এক অনন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে। এই সাফল্যের পরেই মুলতি নির্বাচিত হয়েছে ইটানগরে অনুষ্ঠিতব্য নভেম্বর মাসের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার জন্য। সেখানেই সে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করবে — দিনহাটার কন্যা হিসেবে এটি এক বিশাল সম্মান।
মুলতির পরিবার সাধারণ হলেও তাদের স্বপ্ন বড়। বাবা শিক্ষকতা কাজ করেন, মা গৃহবধূ — দু’জনেই মেয়ের সাফল্যে গর্বে আপ্লুত। তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল-বিকেল নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মুলতি নিজের খেলার মান উন্নত করছে। পাশাপাশি স্কুলের পড়াশোনাতেও সে সমান মনোযোগী। পড়াশোনা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই সে এগিয়ে চলেছে দৃঢ় মনোবল নিয়ে।
তার প্রশিক্ষক জানিয়েছেন, “মুলতির মধ্যে এক অদম্য স্পিরিট আছে। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে। এই মানসিকতাই ওকে আরও দূর নিয়ে যাবে।”
এলাকায় এখন মুলতিকে ঘিরে আনন্দের জোয়ার। স্কুল, ক্লাব, প্রতিবেশী — সবাই গর্বিত এই সাফল্যে। অনেকেই বলছেন, দিনহাটার মতো প্রান্তিক এলাকা থেকেও বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ মুলতি দেবনাথ।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মুলতি জানিয়েছে,
“ওয়েটলিফটিং শুধু আমার স্বপ্ন নয়, এটা আমার আত্মবিশ্বাসের জায়গা। আমি চাই আমার জেলা, আমার দিনহাটার নাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।”
আগামী নভেম্বর মাসে ইটানগরের প্রতিযোগিতায় সে অংশ নেবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে। দিনহাটার মানুষ এখন একটাই প্রত্যাশায় — যেন মুলতি আরও একবার রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করে।
দিনহাটার মাটিতে জন্ম নিয়েও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে মুলতি দেবনাথ — পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।